October 13, 2026, 11:05 pm
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:
কালবৈশাখীর ভয়াল থাবায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার। রাতে হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ে একটি বিশাল বড় বট-পাইকুর গাছ ভেঙে ঘরের ওপর আছড়ে পড়লে, মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, খোলা আকাশের নিচে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক রাত্রী ১১টার দিকে বিকট শব্দে ঝড় শুরু হয়। নন্দীগ্রাম উপজেলার সিধইল গ্রামের বিয়েগাছতোলা এলাকায় প্রচণ্ড বেগে বাতাসের ফলে বাড়ির পাশের দীর্ঘদিনের পুরোনো গাছটির শিকড় উপড়ে পড়ে। শোবার ঘরের চালের ওপর গাছটি ভেঙে পড়ায় টিন-বাঁশ ও দেয়াল দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, চাল-ডাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব চাপা পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
বাড়ির মালিক মানিক মিঞা জানান, রাতে আমার চায়ের দোকান বন্ধ করে এসে খেতে বসি, সে সময় প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে তারা একপাশে জড়ো হয়ে ভয়ে কাঁপছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে গাছটি ঘরের চালের ওপর ভেঙে পড়ে। ঘরের কোনে আশ্রয় নেওয়া মা, দুই ভাতিজা স্ত্রী ও আমার এক সন্তানসহ তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
বাড়ি হারিয়ে পরিবারটির আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী গৃহকর্তা কান্নাকণ্ঠে বলেন, কদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছি “অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা ও বাংক থেকে ঋণ করে ঘরটি তুলেছিলাম। এখন মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই। কীভাবে এই ঘর মেরামত করব আর কোথায় থাকব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়রা রাতেই ছুটে এসে পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। তবে এই মুহূর্তে পরিবারটির থাকার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি অনুদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির এই মৌসুমে এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।