October 13, 2026, 10:08 pm

শজিমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, কর্মবিরতি; আটক ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন করে মোট ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করে।

মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫৫) অ্যাজমাজনিত জটিলতায় শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তার মৃত্যুর পর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আদনান ইসলাম অর্ক নামে আরও এক ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়ে হাসপাতালের অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের ছয়জন করে মোট ১২ জন আহত হন।

তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাদের ছয়জনকে হাসপাতালের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে পুলিশ হাসপাতালের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় ওই ছয়জনকে আটক করে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বগুড়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর চারজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নিহত আব্দুল মালেকের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুল মালেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এরপর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে কয়েকজন স্বজন ও বহিরাগত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে তাদের দাবি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে তাদের ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বগুড়ার সভাপতি অধ্যাপক ডা. আজফারুল হাবিব রোজ বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার চিকিৎসকেরা হামলার শিকার হলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি দ্রুত চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাসপাতাল প্রশাসন, চিকিৎসক প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © dainikalopratidin.com
Designed, Developed & Hosted BY ALL IT BD 01722461335