October 13, 2026, 10:08 pm
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাঢ় সবুজ রঙের শরীর, গলায় কালো ও লাল রঙের আভিজাত কণ্ঠহার, ডানায় সবুজের উপরে লাল খয়েরি দাগ আর রক্তিম লাল ঠোঁট ওয়ালা বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু চন্দনা এখনো বসবাস করছে বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ডেমাজানি পালপাড়ার পাশেই বলিহারের জমিদার নৃসিংহ চক্রবর্তীর কাছারিবাড়ির মেহগনি গাছে।
যত্ন না পাওয়া প্রাচীন বৃক্ষটির ভাঁজে ভাঁজে কোটরে এখনো বসবাস করে চন্দনা গুলো। বৃক্ষটি একসময় শতাধিক চন্দনার নিরাপদ অভয়াশ্রম হলেও বর্তমানে তা অর্ধমৃত। কিছু চন্দনা এখনো টিকে থাকলেও নিরাপদ আবাসন, খাদ্য সংকটে আর শিকারীদের দৌরাত্মে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাইফুর রহমান এর নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার(৩সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মী, উপজেলা কৃষি অফিসার আমেনা খাতুন এবং উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ফিরোজ আহম্মেদ কাছারিবাড়ির মেহগনি গাছ এবং চন্দনাদের পর্যবেক্ষণে আসেন। এসময় বৃক্ষটি রক্ষা, চন্দনাদের খাদ্য সংকট নিরসনে নির্দেশনা দেন তাইফুর রহমান।
আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বিমান বলেন, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৫৮-১৭০৭) নওগাঁর বলিহারের জমিদার নৃসিংহ চক্রবর্তী আনুমানিক সাড়ে তিনশ বছর আগে ডেমাজানী বন্দরে এই কাছারিবাড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। মেহগনি গাছটিও সেই সময়ের লাগানো। সেখানে আরো কিছু বৃক্ষ ছিলো যা কালের বিবর্তণে হারিয়ে গেছে। আমার বাবা রজিবুল ইসলাম এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর আমল থেকে এখন অবধি আমরা এই চন্দনা গুলোর রক্ষায় সর্বাত্বক সহযোগিতা করে আসছি।
ডেমাজানি পালপাড়া গ্রামের ধীরেন পাল(৯০) বলেন, ৩বছর আগেও এখানে শতাধিক চন্দনা থাকতো। শব্দ করে আকাশে উড়তো এবং আশপাশের বাড়ির কামরাঙ্গা গাছে বসে ফল খেতো। চন্দনাদের বসবাস করা মেহগনি গাছটিও সতেজ ছিল। এখনো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চন্দনা এই মেহগনি গাছ সহ আশপাশের বড় গাছে বসে। সন্ধ্যার সময় চন্দনা গুলো মেহগনি গাছের কোঠরে ঢুকে যায়। চৈত্র মাসে এদের বাচ্চা নিয়ে উড়তে দেখা যায়। তবে যে প্রজনন হয় তা আর ফিরে আসেনা।
একই গ্রামের প্রদীপ মোহন্ত (৫৬) বলেন, কাছারিবাড়ির ফাঁকা জায়গা, আশপাশের ঝোপঝাড়ে এবং পাশের করতোয়া নদীর পাড় দিয়ে অনেক বুনো ধান ছিল(এক ধরণের ঘাস। যার মাথায় ধানের মত ফলন হয়)। এগুলো থেয়ে চন্দনা পাখি গুলো টিকে ছিল। কাছারিবাড়ির ভিতরে প্রাচীন অনেক উঁচু শিমুল গাছ ছিল। বড় বৃক্ষগুলো নিধন হওয়ায় এবং খাদ্য সংকটে চন্দনাদের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমেছে।
বিশ্বনাথ পাল(৭৫) নামের আরেকজন বলেন, পাখি প্রেমীদের উদ্যোগে বেশ কয়েক বছর আগে কাছারিবাড়ির ভিতরে সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হয়েছিলো। তখন অনেক চন্দনা ফিরে আসতে দেখা গেছে এবং নিচে নেমে ফুলের বীজ খেতো।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাইফুর রহমান বলেন, কিছু চন্দনা দেখেছি। মেহগনি গাছ রক্ষা কৃষি অফিসারকে প্রয়োজনিয় নির্দেশ দিয়েছি। এবং চন্দনাদের খাদ্য সংকট নিরসনে সূর্যমুখি ফুল লাগানোর জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)কে বলেছি। চন্দনাদের কোন চিকিৎসা লাগলে প্রণি সম্পদ অফিসারের মাধ্যমে দেয়া হবে।